Home Bangladesh দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করলেন সিইসি

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করলেন সিইসি

[ad_1]

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। ফোকাস বাংলা

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করার আবেদন করেছিলেন ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অসত্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। 

বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান নির্বাচন কমিশন এই দাবি করেন।

এ সময় নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তবে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছ থেকে সিইসি কোনও প্রশ্ন নেননি বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করার আবেদন করেছিলেন ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। 

বিশিষ্ট নাগরিকরা চিঠিতে বলেছিলেন, নুরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গুরুতর অসদাচরণ ও দুর্নীতির অনেক ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

ওই চিঠিকে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অবসরপাপ্ত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও রাশেদা কে চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন প্রমুখ। 

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই অসদাচরণের মধ্যে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম যেমন বিশেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ২ কোটি টাকা তুলে নেওয়া, কর্মচারি নিয়োগের নামে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকার দুর্নীতি, নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনটি করে গাড়ি ব্যবহার এবং ইভিএম কেনায় অনিয়ম করা হয়েছে। 

কমিশন সদস্য হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বিশেষ বক্তা হিসাবে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সম্মানী হিসাবে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণের বিষয়ে করা অভিযোগের জবাবে হুদা বলেছিলেন, “একাদশ জাতীয় সাধারণ ও পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় ১৫ জন বক্তার জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।”

“সুতরাং নির্বাচন কমিশনারদের দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,” বলেন সিইসি। 

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনও সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘন করেনি।”

তার মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ ও পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৫ জন বক্তার জন্য ১.০৪ কোটি টাকা এবং ৪৭.৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “প্রশিক্ষণ কোর্সের উপদেষ্টা হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিব একটা সম্মানী পেয়েছেন এবং অব্যবহৃত অর্থ আবার কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।”

দেশের সংবিধান এবং বিদ্যমান আইনের সাথে মিল রেখে কমিশন নির্বাচন সম্পর্কিত সকল প্রশাসনিক ব্যয়ের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব দাবি করে সিইসি প্রধান বলেন, “সমস্ত ব্যয়ের নিরীক্ষণ করা হয়।”

“নিরীক্ষার বিষয়ে যদি কোনও আপত্তি নিষ্পত্তি না হয় তবে ব্যয় করা অর্থ কোষাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। খরচের সমস্ত প্রক্রিয়া নথিভুক্ত করা হয়। সুতরাং, অনিয়মের কোনও সুযোগ নেই, ”যোগ করেন তিনি।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাতও এই চিঠির সমালোচনা করে বলেন, চিঠির অভিযোগ ভিত্তিহীন। এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে।



[ad_2]

You may also like